জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে শুরু করা সাধারণ জ্ঞানের বিশেষ ক্লাসটি ইতিমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা বেশ আগ্রহ নিয়ে ক্লাসে আসছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এটি মূলত: ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সাধারণ জ্ঞান অর্জনে অভ্যস্ত করে তোলা, যাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ও চাকরির পরীক্ষাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভালো কিছু করতে পারে।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. দিদারুল আলম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. তাজুল ইসলাম ও অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক শেখ নাজমুল হাসান এই সাধারণ জ্ঞানের ক্লাস পরিচালনা করছেন। ১১ অক্টোবর ছিল একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রথম ক্লাস। এই প্রতিবেদক ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে কলেজের নতুন শিক্ষা ভবনের তিনতলায় সাধারণ জ্ঞানের ক্লাসে গিয়ে দেখতে পান প্রভাষক মো. দিদারুল আলম পাঠদান করছেন। বড় এই শ্রেণিকক্ষটিতে অনেক ছাত্র-ছাত্রী। সবাই মনোযোগী তার দিকে। তিনি আন্তর্জাতিক বিষয়ের উপর আলোচনা করছিলেন। তার হাতে মাইক্রোফোন। পেছনের দিকেও শোনা যাচ্ছিল স্পষ্ট।
কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে উঠে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে মিশে গেলেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী। তিনিও তার জীবনের অনেক দেশ ভ্রমণ এবং সাধারণ জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব তোলে ধরে তার অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন আধুনিক মালয়েশিয়ার বিশ্বে মাথাউঁচু করে দাঁড়ানোর গল্প। বলছিলেন, আমাদের দেশেও কিন্তু কম নেই। আমাদের দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার পাহাড়ি সেই নীলগিরি। কি অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বলছিলেন, নতুন নতুন দেশ ও জায়গা সম্পর্কে জানতে হবে। তোমাদেরকে ভূগোলে আগ্রহী হতে হবে। আমরা যারা কথা বলি মূলত অভিজ্ঞতার আলোকেই কথা বলি। তিনি আরও বলছিলেন, তোমাদের মাথায় রাখতে হবে জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়েই ভালো কাজে জায়গা করে নেওয়া যায়।
ক্লাস শেষে এই প্রতিবেদকের সাথে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর সাথে কথা হলে তাদের মধ্যে এই ক্লাস নিয়ে বেশ আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তার কথাই উঠে আসে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার জিমি বললো, বরফের ঘরে মানুষ থাকে এ নিয়ে হালকা হালকা জানতাম। আজকে এই ক্লাসে এসে স্পষ্টভাবে জানতে পারলাম যে, ওই মানুষগুলোর নাম এস্কিমো। তারা আলাস্কা নামের বরফের দেশের বাসিন্দা। আন্তর্জাতিক আরও অনেক বিষয়ে শিখলাম। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরি এমনকি আমাদের ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজে দিবে। যারা সাধারণ জ্ঞানে জ্ঞানী তারাই তো এগিয়ে যায়। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নুসরাত জাহান মিম বলছিল, সাধারণ জ্ঞান সম্বন্ধে ভালো ধারণা থাকলে বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা কাজে লাগে। একাদশ শ্রেণির ছাত্র মাকছুদুল হাসান মারুফ বললো, আজারবাইজান দেশটি আমি জানতাম ইউরোপে। কিন্তু আজকে স্যারের কাছ থেকে জানলাম এটি এশিয়া মহাদেশেরই একটি দেশ। সামগ্রিক বিষয়ে এই ভাবে এক প্লাটফরমে জানা সম্ভব হয়। আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে এই জ্ঞানচর্চা বেশ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শাকিল মাহমুদ শুভ বললো, শুধু ক্লাসের পড়ায় ডুবে থাকলে এগিয়ে যাওয়া যায় না। তাই এই ক্লাসের সাথে যুক্ত হয়েছি। এখানে স্যার সবার উদ্দেশে যেভাবে বলে যান, এতে করে মনোযোগ থাকে। বিষয়গুলো মনে থাকে। আমাদের মধ্যে এ নিয়ে সপ্তাহজুড়েই আগ্রহ পড়ে ক্লাসটার প্রতি।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. দিদারুল আলম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. তাজুল ইসলাম ও অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক শেখ নাজমুল হাসান এই সাধারণ জ্ঞানের ক্লাস পরিচালনা করছেন। ১১ অক্টোবর ছিল একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রথম ক্লাস। এই প্রতিবেদক ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে কলেজের নতুন শিক্ষা ভবনের তিনতলায় সাধারণ জ্ঞানের ক্লাসে গিয়ে দেখতে পান প্রভাষক মো. দিদারুল আলম পাঠদান করছেন। বড় এই শ্রেণিকক্ষটিতে অনেক ছাত্র-ছাত্রী। সবাই মনোযোগী তার দিকে। তিনি আন্তর্জাতিক বিষয়ের উপর আলোচনা করছিলেন। তার হাতে মাইক্রোফোন। পেছনের দিকেও শোনা যাচ্ছিল স্পষ্ট।
কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে উঠে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে মিশে গেলেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী। তিনিও তার জীবনের অনেক দেশ ভ্রমণ এবং সাধারণ জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব তোলে ধরে তার অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন আধুনিক মালয়েশিয়ার বিশ্বে মাথাউঁচু করে দাঁড়ানোর গল্প। বলছিলেন, আমাদের দেশেও কিন্তু কম নেই। আমাদের দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার পাহাড়ি সেই নীলগিরি। কি অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বলছিলেন, নতুন নতুন দেশ ও জায়গা সম্পর্কে জানতে হবে। তোমাদেরকে ভূগোলে আগ্রহী হতে হবে। আমরা যারা কথা বলি মূলত অভিজ্ঞতার আলোকেই কথা বলি। তিনি আরও বলছিলেন, তোমাদের মাথায় রাখতে হবে জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়েই ভালো কাজে জায়গা করে নেওয়া যায়।
ক্লাস শেষে এই প্রতিবেদকের সাথে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর সাথে কথা হলে তাদের মধ্যে এই ক্লাস নিয়ে বেশ আগ্রহ ও প্রয়োজনীয়তার কথাই উঠে আসে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার জিমি বললো, বরফের ঘরে মানুষ থাকে এ নিয়ে হালকা হালকা জানতাম। আজকে এই ক্লাসে এসে স্পষ্টভাবে জানতে পারলাম যে, ওই মানুষগুলোর নাম এস্কিমো। তারা আলাস্কা নামের বরফের দেশের বাসিন্দা। আন্তর্জাতিক আরও অনেক বিষয়ে শিখলাম। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে চাকরি এমনকি আমাদের ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজে দিবে। যারা সাধারণ জ্ঞানে জ্ঞানী তারাই তো এগিয়ে যায়। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নুসরাত জাহান মিম বলছিল, সাধারণ জ্ঞান সম্বন্ধে ভালো ধারণা থাকলে বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা কাজে লাগে। একাদশ শ্রেণির ছাত্র মাকছুদুল হাসান মারুফ বললো, আজারবাইজান দেশটি আমি জানতাম ইউরোপে। কিন্তু আজকে স্যারের কাছ থেকে জানলাম এটি এশিয়া মহাদেশেরই একটি দেশ। সামগ্রিক বিষয়ে এই ভাবে এক প্লাটফরমে জানা সম্ভব হয়। আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে এই জ্ঞানচর্চা বেশ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শাকিল মাহমুদ শুভ বললো, শুধু ক্লাসের পড়ায় ডুবে থাকলে এগিয়ে যাওয়া যায় না। তাই এই ক্লাসের সাথে যুক্ত হয়েছি। এখানে স্যার সবার উদ্দেশে যেভাবে বলে যান, এতে করে মনোযোগ থাকে। বিষয়গুলো মনে থাকে। আমাদের মধ্যে এ নিয়ে সপ্তাহজুড়েই আগ্রহ পড়ে ক্লাসটার প্রতি।
সাধারণ জ্ঞান পাঠদানের এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. তাজুল ইসলাম বললেন, সপ্তাহে একদিন এই সাধারণ জ্ঞানের ক্লাস হয়ে আসছে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ক্লাসটি শুরু হয়। তাদের ক্লাসও চলছে। ১১ অক্টোবর ছিল একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহণে প্রথম ক্লাস। এখানে আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীকে জনপ্রতি ১০০ টাকায় ভর্তি হতে হয়। টানা দুই বছর তাকে আর কোনো ফি দিতে হবে না। ক্লাস চলবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগ পর্যন্ত। মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা তিন বিভাগের সবাই এই ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। তিনি আরও জানান, এই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ১ হাজার ৩৫ জন। আর একাদশ শ্রেণিতে রয়েছে ১ হাজার ১৬৩ জন ছাত্র-ছাত্রী। একাদশ ও দ্বাদশ দুই শ্রেণির ৪ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী এই ক্লাসের সাথে যুক্ত হয়েছে। নতুন শিক্ষাভবনের তিনতলায় সাপ্তাহিক এই ক্লাসটি বসে বেলা দুপুর একট থেকে দু’টা পর্যন্ত।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, এই কলেজের এই ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পর তারা যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আমরা দেখেছি অনেক ভালো ছাত্র-ছাত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় টিকে না। ফলে আমাদের জামালপুরের ছেলে-মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে পিছিয়ে পড়ছে। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাতেও তারা টিকে না। আমাদের এই সাধারণ জ্ঞানের ক্লাসটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সহায়কই হবে না, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর বিসিএস বা যেকোনো সরকারি বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও কাজে দিবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পূঁথিগত পড়াশোনার পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা ও এ নিয়ে তাদের মধ্যে সারাজীবনের জন্য বিশেষ এক ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করে দেওয়া। শুধু এই সাধারণ জ্ঞানের ক্লাসই বা কেন, ওদের মধ্যে আগ্রহ থাকা দরকার। ওরা আগ্রহ নিয়ে আসলে আমরা ওদের জন্য ভালো কতো কিছুই তো করতে পারি।
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন!
