আপনাকে স্বাগতম!

আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ।

মায়ের মৃত্যুর শোকের সাথে অন্য কারও মৃত্যু তুলনা চলে না : প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম

জামালপুরের মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের মা নুরুন্নাহার বেগমের মরদেহ ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে জামালপুর শহরের কাছারি শাহি মসজিদ প্রাঙ্গণে আনা হয়। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

জামালপুর শহরের কাছারি শাহি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মরহুমার নামাজে জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, ‘মায়ের মৃত্যুর শোকের সাথে আর কোনো মৃত্যুর তুলনা চলে না। আমার মা ছিলেন আমার বাবার সকল কাজের প্রেরণা। আমার বাবা মির্জা আবুল কাশেমের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো না। কিন্তু আমার মায়ের অনুপ্রেরণায় আমার বাবা জীবনে সফলতা পেয়েছিলেন। আমরা সাত ভাই-দুই বোন, সবাইকে আমার বাবা আর মা আমাদের তিলে তিলে মানুষ করেছেন। আমার জানামতে আমার মায়ের কোনো ঋণ ছিল না। কাউকে কোনোদিন কষ্টও দিতে দেখা যায়নি। মা সব সময় অন্যের দু:খে ও সাহায্যে কাতর থাকতেন। তবুও মনের অজান্তে যদি কারও কাছে কোনো পাওনা থাকে, তাহলে আমাকে বলবেন। কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনারা আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম কান্নায় ভেঙে পড়েন।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম হীরা, জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর, জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন পিপিএম, জামালপুরের সিভিল সার্জন চিকিৎসক মোশায়ের উল ইসলাম, শেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রোমান, ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা বুলবুল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, সহসভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানা ও সহসভাপতি জি এস এম মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, দি জামালপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুল আলম গণি বাবুল, মরহুমার আত্মীয় আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ। পরে সবাই জানাজা নামাজে অংশ নেন। জানাজায় মরহুমার নিকটাত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

জানাজা শেষে রাতেই মরহুমার মরদেহ জামালপুর থেকে মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের বালিজুড়ী বাজারের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাত নয়টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমার আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ জানাজায় শরীক হন। পরে মরহুমার মরদেহ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় ঢাকায় ন্যাম ভবনে প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের সরকারি বাস ভবনের সামনে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দানবীর মরহুম মির্জা আবুল কাশেমের সহধর্মিনী এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের মা নুরুন্নাহারের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সার ও ব্রেইনস্ট্রোক রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমসহ ছয় ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।  

খোঁজার শব্দ : শোক সংবাদ, খবর, জামালপুরের খবর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, রত্নাগর্ভা, news, jamalpur, Mirza Azam, mustafa monzu, news,
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন!

Post a Comment

আগের পোস্ট পরের পোস্ট

نموذج الاتصال